কিছু বলা কথা

কিছু বলা কথা:-

পৃথক দুটো দেশ। শুধুমাত্র কাগজে- কলমে আর প্রোটোকলে।অথচ, হৃদয়ে সীমানাহীন বাংলা,বাঙালীর।তাই, দু'দেশের প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরে নিতে হয়।তাসত্ত্বেও,বলা যায় নব্বই দু'বাংলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দশক এবং উল্লেখযোগ্যও বটে। প্রাদেশিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের দিকে দেখলে অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও চিহ্নিত একটি দশক এটি। বিশেষ করে ভারতের প্রেক্ষিতে নব্বই নানা কারণে বেশ স্মরনীয়।সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ এখানে নেই। তবু বলা যায়, নব্বই অর্থে এক নতুন আত্মোপলব্ধি। ইন্টারনেট সহ প্রযুক্তি নির্ভরতার জীবন যাত্রার প্রহেলিকা। আর প্রথাগত ছক ভেঙে বেরিয়ে আসার তীব্র প্রবণতা।

আবার,আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দেখলে উভয় দেশের অনেকাংশে সাদৃশ্য যেমন আছে, তেমনই দেশীয় ক্যানভাসে অমিলও কম নয়।তাই, এবাংলায় নব্বই যখন আত্মসংকট থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, সবকিছুতে ভাঙনের অস্থিরতার পরিমাপ,প্রাচীন ঐতিহ্যের সংস্কার ছুঁয়ে গভীর আত্মদর্শন, তীব্র মৌলবাদী ফতোয়া, ফ্যাসিজমের চরম আঘাত আর নগ্ন ভোগবাদ প্রভৃতি জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলতে চেয়েছে। ঠিক সেসময় শহর থেকে প্রান্তিক গ্রামে নব্বইয়ের কবিতা সময়ের দলিল হয়ে বইয়ে দিয়েছে মুক্তির হাওয়া।তেমনই, বাংলাদেশে নব্বই যেন আত্মজৈবনিক ভাবনার প্রকাশে উজ্জ্বল।সেই সঙ্গে, অবক্ষয়ের মধ্যেও প্রকৃতি-প্রীতি ও মানবতাবাদের উন্মেষ ছুঁয়ে এগিয়ে চলা ইতিহাস ও মিথ সমন্বিত সৌন্দর্যের কাছে।একটা শ্রেণি ভাবনার দ্যোতনায় থেকেও অস্তিবাদ এবং জাদুবাস্তবতার আবহ সহ প্রভৃতি বিষয়ে আলোকিত হয়ে উঠেছিল।ফলে,সবটা নিয়ে দু'বাংলায় নব্বই দশক তাই বেশ তাৎপর্যবাহী। 

এ সংখ্যার 'নৌবত'এর নহবতে চেষ্টা করা হয়েছে নব্বইয়ের সেই বোধকে কুর্নিশ জানাতে। যেখানে, তথাকথিত আত্মশ্লাঘা দর্শিত নব্বইয়ের কলম না থাকলেও যাঁরা আছেন তাঁরাও কোন অংশে কম যান না। শুধু, একটু অহং থেকে সরে গিয়ে দৃষ্টি ফেলতে পারলেই সহজেই অনুধাবিত হবে এঁরাও নব্বইয়ের অন্যতম স্বর।প্রসঙ্গত, ইচ্ছে ছিল 'নৌবত'-র এই সংখ্যাটি ১০০ শতাংশ নব্বই দশকের কবিতা ও কবিতাবিষয়ক গদ্য নিয়ে প্রকাশিত হবে। কিন্তু, এই মারী আবহে বহু প্রিয়জনের মৃত্যু আমাদের প্রতিমুহূর্তে নির্বাক করে দিয়ে চলেছে।তাই, তাঁদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও ব্লগের স্থান সংকুলানের জন্য বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র তিনজন বিশিষ্ট জনের প্রতি স্মৃতিচারণমূলক 'নৌবত'-র পক্ষ থেকে রইল বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। সেই সঙ্গে 'নৌবত'-এর নব্বইয়ের নহবতে যাঁরা লেখা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।

নতুন বছর পড়েছে।ভয়াবহ মারীর ছোবল থেকে দ্রুত বিশ্ববাসী মুক্তি পাক শুরুতে এই প্রার্থনা করি। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্যি যে, বৃহত্তম গনতন্ত্রের দেশে দীর্ঘ দিন যেভাবে চাষীদের অসহ কষ্টে অবস্থান আন্দোলনে রাস্তায় দিনরাত কেটে চলেছে। সেই সঙ্গে দিনের পর দিন বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাস্তায় বসে আন্দোলন করে চলেছেন মানবসম্পদ বিকাশের অন্যতম কারিগররাও, অথচ সমস্যা সমাধানের তেমন কোন লক্ষণ নেই।এও আমাদের কাছে কম লজ্জার নয়।পাশাপাশি, দেশ জুড়ে তীব্র মুল্যবৃদ্ধির ছ্যাঁকা। তার উপর দেশের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে বাংলায় নির্বাচন ঘিরে যা চলছে তাতেও নাগরিক হিসেবে হাঁসফাঁস করার মত অবস্থা। যেখানে, জনজীবনের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো আড়ালে সরে গিয়ে ক্রমে দীর্ঘতর হয়ে উঠেছে ধর্মীয় মেরুকরণ। অরুচিকর হয়ে উঠছে ব্যক্তি আক্রমণের নগ্নরূপ। তীব্র হচ্ছে সম্প্রীতি ও বাঙালি ঐতিহ্যের উপর কৌশলে আঘাত হানার প্রচেষ্টা সহ প্রভৃতি বিষয়গুলো। একজন নাগরিক হিসেবে এসবের অভিঘাত থেকে মুক্ত থাকা কঠিন।তবু, জীবন....  

তাই, নতুন বছরে সবকিছু আঁধার সরে গিয়ে জনজীবন আলোকময় হয়ে উঠুক এটুকু প্রত্যাশা। সকলের ভালো থাকার প্রার্থনায়......





Comments

Popular posts from this blog

মিহির সরকার

কামাল আহসান

রিয়াদ হায়দার