মিহির সরকার



মিহির সরকার

আটের দশকের কবি মিহির সরকার। যদিও সাতের দশকের মাঝা মাঝি সময় থেকে  কবিতা ও ফিচার  প্রকাশিত হতে থাকে বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায়।কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  রসায়নে স্নাতক। অগ্রজ ও অনুজ সবার কবিতা নিয়মিত সমান আগ্রহে পড়া আর একটি অন্যতম নেশা। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ  মিহির সরকার এর প্রিয় দৃশ্য। মা গৌরী সরকার ছিলেন রবীন্দ্র গান ও সাহিত্যের প্রবল অনুরাগিনী। পিতা গোপীনাথ সরকার ছিলেন রেলের সামান্য কর্মচারী। সহজ - সরল জীবনে বিশ্বাস করতেন এবং পরোপকারী ছিলেন।

প্রকাশিত কবিতার বই:- মুখোশে লাগল টান, আকাশ এত মেঘলা,বাজুকা, ভালবাসা পাথরকুচি,মধ্য মে নাসের বীজ ধান, একলা ঘরে পর্যটক, হে পতনপ্রিয় সময়,বোবা চেয়ার অনুগত বড়ো,আমরা তো রাগ করতে পারি, কবিতার ছিটমহল, আমার প্রেম আমার কারাগার

গল্পের বই:- টানাপোড়েন, প্রবল বৃষ্টি, জ্যোতি বসুর চেয়ার, ডানাওয়ালা সমুদ্র।সম্পাদক - সহজ



                
           বিশেষ প্রবন্ধ:- স্মৃতিচারণে শ্রদ্ধাঞ্জলি
                          কবি মিহির সরকার



সময়ের  সম্রাট  কবি নাসের  হোসেন



কবি নাসেরকে  নিয়ে লিখতে  গিয়ে বারবার মনে পড়ছে একটি  চিনা প্রবাদ-

যে  ধৈর্যবান সে নিরপেক্ষ

যে নিরপেক্ষ  সে- ই সম্রাট। 


নেভি ব্লু সার্ট কোনওদিন গুঁজে পরতে দেখিনি। তেমনি শীতের পোষাক বলতে জিনসের জ্যাকেট আর জিনসের প্যান্ট।মাথা নিচু করে আপন মনে কলকাতার  রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে একটি মানুষ।  কবিতা লেখে।  পেশায় সরকারি  র্কমচারী।  কবি নাসের হোসেন বলতে এমনই  ছবি  বারবার  ভেসে উঠে।  নাসের মিতবাক।  কিন্তু  ভীষন  মিশুকে। নম্র। বিনয়ী ।  উচ্চকন্ঠে কোনওদিন  কথা বলতে শুনিনি।  


সব সময় মনে হোত নাসের নিজের ভিতর একটি জগৎ  নির্মাণ করে চলেছে  ধৈর্য্য সহকারে।  তাই  সে সর্বদা নিরপেক্ষ। এই নিরপেক্ষ  থাকা  খুব কঠিন কাজ। কিন্তু নাসের অনায়াসে সেই নিরপেক্ষতা  বজায় রাখতে পারত। এ এক আশ্চর্য ক্ষমতা।  

যে নিরপেক্ষ সে-ই সম্রাট।  সেই অর্থে নাসের ছিল সম্রাট।  কারও সঙ্গে তাকে মেলানো যাবে না।সে  সবার সঙ্গে মিশছে।কথা বলছে,হাসছে।  কিন্তু পরচর্চা তার রক্তে ছিল না।তাই সব সময় সে আলাদা। 





তার কবিতাও  সবার থেকে আলাদা।  কাউকে নাসের অনুসরণ করেনি।  কারো প্রভাভ তাই তার লেখায় দেখা যায়নি। সে নিজের মতো করে তার কবিতার বাগান সাজিয়েছে। 

বছর দুই আগে "জলসিড়ি"  পত্রিকায় প্রকাশিত চার অষ্টক শীর্ষক কবিতাগুচ্ছের প্রথম কবিতা


 ঝুমুর


একটি ছাগল রোজ দেখা করে যায় এই পাহাড়ে

নাচতে নাচতে দূর থেকে এসে নেচে নেচে

ফিরে যায়, তার ছোট্ট ছোট্ট শিং এর ঢুঁসো

খেতে ভারি ভাল লাগে,ওই যে ঝুমুর নামে

নদীটি,ওকে বল একটু জোরে ওর গান

গাইতে, এখানে মৃদু ঠাণ্ডা হাওয়া সেই

গানকে আরো বহু দূরে বয়ে নিয়ে যাবে

ছাগলটি এখন আর দেখা যাবে না 

বেশ কয়েকদিন।

  

কবিতাটি বার কয়েক পড়লে বোঝা যাবে নাসের তার অনুভব  দিয়ে আমাদের হাত ধরে নিয়ে গেছে জীবনের কত গভীরে।  আর একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে  তার কবিতা আসলে ছবি হয়ে উঠে টুকরো টুকরো আঁচড়ে।  


নাসের ভাল ছবি আঁকে অনেক পরে জানতে পেরেছি। আগে কবিতা লিখেছে না ছবি এঁকেছে বলতে পারব না।  তবে তার প্রথম কবিতার বই "অপারেশন থিয়েটার" প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে।  সম্ভবত  তার ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয় ১৯৮৪ সালে। নাসেরের  ছবি উদ্বোধন  করেন  সাহিত্যিক  সুনীল  গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি তুলেছিলেন  মকবুল ফিদা হুসেন। 

একটি বহুমুখি প্রতিভার প্রয়ানে আমরা সত্যি মর্মাহত।  এত তড়াতাড়ি  যেতে হয় নাসের?  তুই তো আমার চেয়ে চার -পাঁচ বছরের ছোট।

Comments

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

রিয়াদ হায়দার