মতিন রায়হান

মতিন রায়হান

জন্ম:- ২২শে জুলাই ১৯৬৭।কোরবানপুর, মুরাদনগর, কুমিল্লা।

নব্বই দশকের কবি। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা : ১৫।

উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম: কাব্যগ্রন্থ :  তিতাস পুরাণ (১৯৯৬);  পাতাকাহিনীর খোঁজে (২০০২); আগলে রাখি নদীর সম্ভ্রম (২০১২); নদীমগ্ন বাউলের গান (২০১৯)।

প্রবন্ধ-গবেষণা : বাংলাদেশের উৎসব (২০০২); স্বাধীনতা সংগ্রামে যোদ্ধা নারী (২০০২); আলাপন ও অন্যান্য (২০১৩); আমাদের ছায়াতরুগণ (২০১৮); পুষ্পগাথা পুষ্পকথা (২০১৮)।

কিশোর জীবনী : লালন শাহ (২০০২) মরমী কবি হাসন রাজা (২০০২); পল্লীকবি জসীমউদদীন (২০০২।



গুচ্ছ কবিতায়

কবি মতিন রায়হান




সঙ্গপ্রীতিবোধ


দূরও নিকট হয় সঙ্গপ্রীতিবোধে, একান্ত যাপনে...


এ পৃথিবী এক আনন্দনগর! তাই যে যার মননে নিত্য

আনন্দ কুড়ায়! পরিযায়ী পাখির স্বভাবে খুঁজি রোজ

কোমল উষ্ণতা; কখনোবা প্রীতিগন্ধা জলাশয়ে

ভাসি; শাপলা-শালুকে লিখে যাই প্রণয়বারতা!

তুমি দেখো কিংবা না দেখো, তা নিয়ে ভাবি না।

কী করে জগৎ আজ এতোটা এগোলো? প্রত্নপ্রেমে

ডুবে মানুষে মানুষে গড়ে তুলি সখ্য আর সহজ সাম্যতা;

জানি, আমার আনন্দে ভাগ আছে সকলের; যে কথা

ভুলি না কখনোই! এ জগৎ প্রেমময়, বাঁচার আনন্দে

সত্যি বাঁচি! তুচ্ছ থেকে তুলে নিই পুচ্ছতোলা ময়ূরের

নাচের গমক; ডুবে মরি অবগাহনের স্বচ্ছতোয়া জলে!

উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাসে আমাদের

ফেলে আসা দিনযাপনের কথামৃত, অধরা বিভূতি!

যে জানে জানুক, থাকুক কিছুটা তবে প্রিয় সঙ্গোপনে!


দূরও নিকট হয় সঙ্গপ্রীতিবোধে, একান্ত যাপনে…



আমার নদীর নাম বুড়ি


আমার বুকের গহিন চাতাল ছুঁয়ে বয়ে যায় বুড়ি


শীর্ণ এক জলধারা; জলের জৌলুস ছিল কি

কখনো? মনে পড়ে, সেই কবেকার কথা, আষাঢ়ের

প্রবল বর্ষণে যদি ভেঙে যেতো গোমতীর তীর, তবে

ঘোলা জলে কী অধীর বুড়ির নাচন! তিতাসও সায়

দিতো খুব! আধেক দখলে যদি তার কালো জলের,

তো আধেকটা ঘোলা গোমতীর;কী দারুণ জলখেলা!

কালো আর ঘোলা জলে মনে হতো জীবনের

দৃশ্যমান এপিঠ-ওপিঠ! কখনোবা দিন ও রাত্রির

জ্বল্যমান রূপকও! শৈশবের সেই নদী আর নেই!

স্থানে স্থানে চোখে পড়ে সেতুর মহিমা! কোথায়

রয়েছে পড়ে খেয়াঘাট-স্মৃতি, কোথায় হারালো সেই

প্রাণবন্ধু আর হাস্যমুখ ননী মাঝি! রিকশার টুংটাং,

অটোর প্যাঁ-পোঁ বুকে বড়ো বাজে! আহা! শৈশবের

নদী! দিনের ভাটায় আজো এক উড্ডয়নপ্রিয় ঘুড়ি!


আমার বুকের গহিন চাতাল ছুঁয়ে বয়ে যায় বুড়ি...



ঝিনুকের হাড়


সমুদ্র আমাকে টানে, তা তো জানে নদী ও পাহাড়


আমি বয়ে যাই নিরবধি... কখনো কখনো বাঁধা পড়ি

দিগন্তের দূর মায়াজালে! জনাকীর্ণ বালুময় সমুদ্র

সৈকত, ঝাউবীথি মাথা তুলে দেখে নেয় অগণন

অচেনা পর্যটকের মুখ! শঙ্খ যদি বেজে ওঠে গোপন

ইথারে তবে ফেনায়িত জলে মৎস্যকুমারীর ছায়া!

ধীরলয়ে হাঁটে শামুক-ঝিনুক, নড়ে ওঠে ভেজা বালি,

তারামাছ ফোটে; কোথায় রয়েছে মুক্তারাশি, কারা

খোঁজে? ও পাহাড়, কে জুড়েছে আজ বিশ্রম্ভালাপ, 

তোমার সঙ্গে? ঝিনুকেরা জানে মুক্তোজন্মে কতকাল

কেটে গেছে অদৃশ্য আঁধারে! ঠিক সূর্যস্নান শেষে

কারা তবে ফিরে যায় হোটেলের রুমে? সূর্য ডোবার

কাল : ডুবে যাবে ক্লান্ত সূর্য! মুছে যাবে দিগন্তের

সিঁথির সিঁদুর! তুমিও কি ডুবে যাবে ফেনায়িত

অন্ধকারে? গভীর সমুদ্রে ভাসে রোজ ঝিনুকের হাড়!


সমুদ্র আমাকে টানে, তা তো জানে নদী ও পাহাড়!









Comments

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

সুচিপত্র

মিহির সরকার