তৌফিক জহুর
তৌফিক জহুর
জন্ম:- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩,বাংলাদেশ। নব্বই দশকের কবি ও প্রাবন্ধিক। সমসাময়িকদের কাছে তাঁর কবিতা ও গদ্য ঈর্ষণীয়। বুদ্ধদেব বসু ও আবদুল মান্নান সৈয়দ এর মতো তাঁর গদ্য প্রাণরসে ভরপুর। উদ্যান লিটলম্যাগের সম্পাদক। পত্রিকাটি দীর্ঘ ২২ বছর তিনি সম্পাদনা করছেন।
প্রকাশিত গ্রন্থঃ তৃষ্ণার্ত চোখের আকুতি, পাখি বিক্রি কাহিনি, কে তোমাকে ডেকে নিয়ে যায় বারেবারে, আল মাহমুদ ও অন্যান্য ( প্রবন্ধ গ্রন্থ)প্রকাশিতব্য গ্রন্থঃ ঠান্ডা মাংস ও আগুনের চুল্লি (যৌথ কাব্যগ্রন্থ ),শব্দের ওন্কার(যৌথ কাব্যগ্রন্থ) এ শহরে আমার কোনো প্রেমিকা নেই।পুরস্কার:- দৈনিক বাঙালির কন্ঠ পুরস্কার(২০১৯),জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পদক (২০২০)।
গুচ্ছ কবিতায়
শাড়ির জমিন
তাজমহল রোডে চোখ আটকে গেলো, দুপুরের ঘোমটায়
শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে ফুটে আছে বিনয়ী প্রেম
দূর থেকে দেখলাম, হাত ধরিনি তাঁর
আমি একটা গোলাপ দিবো বলে মনস্থির করলাম
শাড়ি সবুজ বৃক্ষ হয়ে গেলো
বৃক্ষের পাতাগুলো চর্যাপদের যুবতী মলা মাছ যেন
শাড়ির আঁচলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়লো
আমি শিহরিত হলাম পাঁচফুট দুই ইঞ্চি আগুনে
সমুদ্র পিপাসায় শাড়ির দিকে তাকাতেই
ডুবে গেলাম চোখের কাজলে।
এই বৃক্ষকে সোবহানবাগে প্রথম দেখি ভেজা রোদে
তারপর ভোরের আকাশে দেখেছি তাঁর সতেজ রূপ
ধীরে ধীরে ফিরোজা রঙে দেখেছি তাঁর ময়ুরী দেহ
আস্থার নাগরদোলায় চেপে ঠোঁটের স্পর্শে সহসা
আবিষ্কার করলাম রহস্যের সৌরভ,
সেদিন থেকে মাটি মাখা গন্ধে জেনেছি
আমার আয়না তুমি
আমার নিঃশ্বাসের পায়রা উড়তে থাকে
বৃষ্টি ভেজা মাঠে
যেখানে দাঁড়িয়ে আছো শাড়ির জমিন।
মায়া
ভোরের আলোয় চোখ মেলি একটা নরম ছোঁয়ায়
আমার কপালে চুমু দেয় তোমার আভাময় ঠোঁট
শিহরিত শিহরণে জেগে আমি তাকিয়ে শুনি
পাখির গান আর মোরগের কুক্কুর আওয়াজ,
ঘোরলাগা চোখে তাকিয়ে দেখি পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ
প্রেম অক্ষরগুলো লতিয়ে ওঠে আলোর এবাদতে
নিখিল চরাচরে জয়ধ্বনি করে সকল সৃষ্টি
এ এক অদ্ভূত জ্যামিতিক নকশায়
নন্দনের পারিজাতের গন্ধ এসে
জাগিয়ে তোলে অনুভূতির ওম।
আপন কক্ষপথের ভেতর সকল গ্রহ যেমন ঘুরপাক খায়
আমিও ঘুরতে থাকি আমার প্রেমময় পথে
আমি তো জানি আমার পথের শেষে দাঁড়িয়ে আছো তুমি।
কাঁঠাল চাঁপার গন্ধ আমাকে টেনে নিয়ে যায়
তোমার আঙিনায়, যেখানে ফুটে আছে আটশত গোলাপ।
তোমাকে ছুঁয়ে দিতেই হয়ে যাও মায়া
আমি মায়াকে মাদুলিতে বেঁধে সামনে এগোতে থাকি
মায়া উড়তে থাকে মায়াবী পালকের ডানায় ভেসে...
'এ জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে ঘুচিয়ে দিবো ......'
আমার শব্দেরা
প্রতি অক্ষরকে বিনি সুতার মালায় গেঁথে তৈরি করি শব্দ
শব্দেরা জেগে ওঠে, জ্বলে ওঠে তারার মতো
উপমার ওড়নায় জড়িয়ে রূপকের চাদরে দিকবিদিক
ছুটে বেড়ায় আমার শব্দেরা, একটা দাগ রাখতে চায় ।
নিঃসঙ্গ পার্কের মতো রাত নেমে এলে, উঠোনে
শব্দেরা জমায়েত হয়, একটা যুতসই শ্লোগানের জন্য।
চুইংগাম চিবোতে চিবোতে শব্দেরা উড়ে যায়
একাল পেরিয়ে মহাকালে শুনি শব্দের ওঙ্কার।
শব্দের দাঁত নেই কিন্তু একবার কামড় দিলে
মানুষের পা টলোমলো হয়ে যায়
শব্দের চাবুক হিসহিস করে আছড়ে পরে
বুকের মাঝখানে, হৃদয়ে খুন জমে যায়।
আমার চারপাশে শব্দেরা ঘুরঘুর করে
শব্দের আয়ু নেই, কলম নামক সুঁইয়ের খোঁচায়
অক্ষরগুলো আত্মার জগতে অমরত্ব পায়।


Comments
Post a Comment