আফজল আলি

আফজল আলি

জন্ম:-৪ জানুয়ারি,১৯৬৭।হুগলি জেলার দশঘরার নিকটস্থ গঙ্গেশনগর গ্রামে জন্ম এবং বাস।  নয়ের দশকের কবি , বর্তমানে কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা এগারো। যার মধ্যে দশটি প্রকাশিত কবিতা পাক্ষিক থেকে । দীর্ঘ পনেরো বছর কবিতা পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীতে ছিলেন। 'জিরো বাউন্ডারি' কনসেপ্ট নামে নতুন একটি ধারণা তথা দর্শন সম্পর্কে বই লিখেছেন  এবং বর্তমানে  'জিরো বাউন্ডারি' কবিতা পত্রিকার সম্পাদনা করেন।পেয়েছেন কবিতা পাক্ষিক সম্মান,সমিধ সাহিত্য সম্মান এবং টার্মিনাস বই পার্বন সম্মান । সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কবির দশটি কাব্যগ্রন্থের কবিতা নিয়ে  কবিতা সমগ্র।


গুচ্ছ কবিতায়
কবি আফজল আলি




মেটাফিজিক্স


কয়েকটা স্মৃতির ভিতর প্যারিসের চাঁদ কী সুন্দর 

কেন প্যারিসের কেন ? আমাদের বাংলার কি নয়

অদ্ভুত আলো ছড়াচ্ছে মা

মা গেছেন কুড়ি বছর হল 

এখন আমি বেশ একা 

দুঃখের আহারগুলো সিংহ এসে খেয়ে যায় 

প্রতিটা ভালো খরচ হচ্ছে 

এতদিন যে ছিল রক্তের ফোঁটা জুড়ে 

আসলে কোনো কবিতাই কাজে লাগে না জীবনের অর্থ সন্ধানে

মিথ্যা একটা আশ্রয় এই পৃথিবীতে, নাগাল দিল না 

এখন কি ডিমের দাম একটু বেড়েছে 

সুপারি গাছের উপর মেটাফিজিক্স বসে ছিল

রাত্রির রং ছিল লাল , না না সবুজ ছিল

তন মন , অর্থাৎ শরীর এবং মন

বিপুল চিন্তার সমাহার , অভ্যাসের যেন অনুগত দাস

যা চাইছি , যা চাইছি না 

প্রকৃতপক্ষে ছুঁয়ে থাকার সেই যে তক্তা , সেখানে শ্যাওলা জমেছে এখন




 ধান


গর্ভবতী হলে ধান গাছের পেট মোটা হয়ে ওঠে

তারপর বেরিয়ে আসে শীষ 

সে তখন দৃঢ় হয় , সবুজে সবুজে দোল 

এত প্রত্যয় জেগে ওঠে বুকে এত আনন্দ 

যেন একাই ভরিয়ে দেবে যত আছে পৃথিবীতে 

এ সময় জল লাগে বেশি , আহার জোগাতে হয় 

সেই যে কথা আছে - 

ভাদরের গলায় গলায় , আশ্বিনের তলায় তলায় 

ক্রমে ক্রমে শীষ ফুটে পুরুষ্টু হয় ধান 

গর্ভবতী মায়ের সন্তান ক্রমশ পাকতে পাকতে শক্ত হয়ে ওঠে

কেউ কেউ আবার বখাটে বনে আগড়া হয়

পৃথিবীর বুকে তার সন্তানদের রেখে মা শুকিয়ে যেতে থাকে 

সে জানে মাটিতে আবার তার সন্তান জন্ম দেবে নতুন ধানের 

এই ভেবে সে মারা যায় মাত্র কয়েক মাসে

মায়ের মৃত্যু হলে মাটিতে পড়ে থাকে শিকড়ের টান




ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে 


মৃত্যু সে তো অনিবার্য 

ভালোবাসা হিংস্র , চেয়ে থাকে শুধু 

মন একটি চকচকে ছুরি 

কখন যে গেঁথে যায় 

উড়োপাখিদের মরার হলে

ইলেকট্রিক তারে মেলে দেয় ডানা

ভোলা যদি যেত স্মৃতি 

তবে যুদ্ধ সংঘটিত হতো না 

হিসেব থাকে না দাঁড়িয়ে 

তার বাইরেও কিছু ঘটে

একটি বিশ্বাস আর একটি ভরসা 

ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে 

নিশ্চয় একদিন সেরে যাবে ক্ষত 

হৃৎপিন্ড কিন্তু বুঝে নেবে দাগ 

হৃৎপিন্ড কি থাকবে অক্ষত


Comments

  1. সবগুলোই মর্মস্পর্শী লেখা।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

সুচিপত্র

মিহির সরকার