আশরাফুল মন্ডল

 

আশরাফুল মন্ডল

জন্ম:- ঐতিহ্যমণ্ডিত বাঁকুড়া জেলার সুপ্রসিদ্ধ সোনামুখী শহরের কাছাকাছি কামারগড়িয়া গ্রামে। বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রাক্তনী। উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা সূত্রে দুর্গাপুর স্টীল টাউনশিপে স্থায়ীভাবে বসবাস। লেখালিখি শুরু নব্বইয়ের দশক থেকে। পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, আসাম, ত্রিপুরার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও ওয়েবম্যাগাজিনে, ব্লগজিনে নিয়মিত কবিতা প্রকাশিত হয়। ইতোমধ্যে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- "কান পেতেছি উৎসমুখে", "নাবিক হব ঝড়ের পাখি", "নাম লিখছে জাতিস্মর"। 


গুচ্ছ কবিতায়

কবি আশরাফুল মন্ডল




পাশের বাড়ি


লেখালিখির পর গভীর রাতে খেতে বসি।

ঢাকা দেওয়া ঠান্ডা খাবার।

বাসি মড়ার মতো কাঠ হওয়া খাবার।


চুপচাপ চারদিক-

পাশের বাড়ি কলিং বেল বেজে ওঠে। 

শুয়ে শুয়ে বুঝতে পারি লোকজনের আনাগোনা-

পাশের বাড়িতে।

কর্তা গিন্নি রেগে কাঁই...

তাদের একমাত্র ছেলে নাকি প্রেম করে।

ছেলে বিধর্মী মেয়েটির সঙ্গে প্রেম করবেই,

- এ নিয়েই তর্কাতর্কি।

 অনেকে গিয়ে তাদের ঝগড়া থামায়।


 আমার কিন্তু বেশ লাগে!


 জীবন তো জুড়িয়ে যাওয়া বাসি খাবার নয়।



বাঁচা বাঁচি


বাঁচতে চাওয়া দোষের কিছু নয়

বাঁচতে পারাটা বেশ শক্ত


নির্মেদ বাবলা গাছটি দিব্বি দাঁড়িয়ে আছে

সে জানে কাঁটা গায়ে জড়িয়েও 

বেঁচে থাকার ফর্মূলা

আমি সেসব জানি না

তুমিও জানো না


শুধু চেষ্টা করি কাঁটার আঘাত সইতে

বেঁচে থাকার ভান করে বাঁচতে


বেঁচে থাকা আসলে অনায়াস এক জার্নি

তুমি কিংবা আমি

এসত্য কবে বুঝব 

বেঁচেবর্তে থেকে মরে যাওয়ার আগেই...



মন্থিত লগ্নে


"বিকেলে দেখা হবে" বললেই কেউ, 

মনে ভাসে আটাশ বছর আগে চেনা পাকুড় গাছটির স্মৃতি...

গাছটির কাছে এলেই রেশমি চুলের গন্ধে মাতোয়ারা...

বেজে উঠতো গান কার যেন চিবুকের একটি কাটা দাগে।

পাকুড় গাছটি কী আছে আজও! নাকি চলে গেছে নিজ নিকেতনে!

দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেই

মনে পড়ে, মনে পড়ে

                   প্রেমিক ছিলাম...

Comments

  1. তিনটি কবিতা স্বাদে ভিন্ন।তবুও তাদের মধ্যে একটি মুলসুর বেজে উঠেছে।জীবনের সুর।

    ReplyDelete
  2. অনবদ্য। জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি
    সুন্দর উপস্থাপন।

    ReplyDelete
  3. অসাধারণ তিনটি কবিতা। মুগ্ধ হলাম।

    ReplyDelete
  4. অপূর্ব কবিতা।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

সুচিপত্র

মিহির সরকার