মামুন মুস্তাফা


মামুন মুস্তাফা

জন্ম:-৩রা, জুলাই, ১৯৭১। বর্তমান বাগেরহাট জেলায়। নব্বই দশকের দশকের উল্লেখযোগ্য প্রাজ্ঞ কবিদের একজন। এই কবির পৈতৃক নিবাস মাগুরা জেলা। নয়ের দশকের মননবোধে উজ্জীবীত সৃজনশীল কবি হিসেবে চিহ্নিত মামুন মুস্তাফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। বর্তমানে কবি একটি দৈনিকের সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। পাশাপাশি দেখছেন কাগজটির সাহিত্যপাতাও। কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:-

কবিতা : সাবিত্রীর জানালা খোলা, কুহকের প্রত্নলিপি, এ আলোআঁধার আমার, একাত্তরের এলিজি, শনিবার ও হাওয়া ঘুড়ি, ব্যক্তিগত মেঘ ও স্মৃতির জলসত্র, কফিনকাব্য, দশ দশমী (নির্বাচিত কবিতা) ইত্যাদি।  প্রবন্ধ: এই বদ্বীপের কবিতাকৃতি, মননের লেখমালা ও অন্য আলোর রেখা।

‘লেখমালা’ কবি মামুন মুস্তাফা সম্পাদিত ছোটকাগজ।পেয়েছেন ‘চিহ্নসম্মাননা’।



গুচ্ছ কবিতায় 

কবি মামুন মুস্তাফা



 দেবী, পা ফেলছেন


একটি কবিতার পাশে শুয়ে আছে বনকর্পূর, মায়া

মেঘের বাড়ি থেকে ছুটে এলো রোমাঞ্চ ডাকঘর,

দেবী, পা ফেলছেন। কাঁটাতারে বিদ্ধ শাড়ি।

দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণের মাঝে নিজেকে নির্বাণ!

সূর্যাস্ত তখন ঝুলে আছে গভীর জানালায়

এই চেতনার রঙে বুদবুদ মৃত্যু আর শোকগ্রস্ত রাত।


মাথার ভেতরে শেষ সিগন্যাল ঝাপসা পৌষের হাওয়া

স্বর্গের পাটাতন থেকে নেমে আসে কিছু অলৌকিক ভোর

এবার কবিতার গর্ভে জন্ম নিল পূণ্যজাত অভিশাপ

হিংসা, পতন, আর ক্লিশে জীবন।


 

কবিতা, অগস্ত্যযাত্রা


ডায়েরির সমাপ্ত পৃষ্ঠায় জেগে থাকে ইচ্ছামৃত্যু

পরবর্তী স্টেশনে ফুরিয়ে যাচ্ছে করুণ হুইশ্‌ল

কবিতায় এখন ন্যাপথলিনের গন্ধ, অথচ

ঘুমের সেই নারী, স্বপ্নদ্রষ্টা!চালতাগাছে

ঝুলে থাকা আত্মা শেষ বাঁশি বাজায়;

পৃথিবীর চারপাশে মোবাইল রিংটোন

কবিতাকে নিঃসঙ্গ করে তোলে, পৌষের

শোকগুলো জমা হতে থাকে ডায়েরির প্রচ্ছদপটে;

কেমন ছিল সেই হারানো চিবুক? শীতের

জমে ওঠা সকালে ৮/১ সড়কে অসুখের সারি সারি গাছ,

বুক থেকে মোছা গেল না ভাঁজ করা দুঃখগুলো,

অরণ্যে রোদন!


কবিতা ভাঙলেই বেরিয়ে আসে

শনি-মঙ্গলের হাট, যেদিকে অগস্ত্যযাত্রা।


 

নিখোঁজ পিতার কবর


এভাবেই কেটে গেছে,

হলুদ চাদরের নিচে অনুভূত হলো

চলৎশক্তিহীন এক নিষ্প্রাণ মনোভূমি।


কে সে? সে কে!

পদ্মার পাড়ে বেজেছে শুধু বিজন বেহালা

অগুনতি মানুষের ভিড়ে

তিনি জাগেননি আর কোনো ছলনায়!


একে একে বিচ্ছিন্ন সব বোধির জগত

দারুণ সব কথার রাজনীতি

সম্পর্কহীন চুমু গড়িয়ে পড়ে

নিখোঁজ পিতার কবরের কাছে!


ব্যাকরণসিদ্ধ অনুভূতি ঘিরে থাকে এই শরীর

কে তুমি? তুমি কে!

ভাবলেশহীন মাটির গহ্বরে

নেমে গেছেন এক জীবনের বাতিঘর।

নিগূঢ় মন্ত্রের শেষ শ্লোক।

Comments

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

সুচিপত্র

মিহির সরকার