সোনালী বেগম
সোনালী বেগম
জন্ম:-২ সেপ্টেম্বর,
১৯৬৪।নব্বই দশকের কবি। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় M.Sc.এবং B.Ed.। গত ৩০ বছর এবং এখনও পশ্চিমবাংলার বাইরে আছেন। তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, আমেরিকা-র বিভিন্ন নেট ও প্রিন্টেড ম্যাগাজিনে এবং কয়েকটি উচ্চমানের সংকলনে।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থঃ– (১৮টি)ক্লাভিকর্ড (২০০২) জেনেসিস (২০০৬)। পতঙ্গবাজি (২০০৬)। অস্তিত্ব (২০০৭)। মোম (২০০৮)। ট্যাটু ডিজাইন (২০০৯)। সুর (২০১০)। ক্ষেত্র (২০১১)। হান্টিং ট্রিপ (২০১২)। সাইকো (২০১৩)। পরাবাস্তব চাঁদ (২০১৩)। কথোপকথন (২০১৪)। বালিঘড়ি (২০১৫)। হলরেখা (২০১৬)। মেঘমল্লার (২০১৭)। বুলফাইট (২০১৮)। ক্রিস্টাল অপারেশন (২০১৯)। রসধারা (২০২০)
অভিযান পাবলিশার্স থেকে প্রথম ১২টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে মেগা কালেকশন ‘কবিতা সংগ্রহ’ (২০১৫)।ই-বুক – বৃষ্টিস্নাত জিরাফ (২০১৩)।গল্প সংকলন – পোস্টমর্টেম (২০১৮)।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি সোনালী বেগম
আসমুদ্র হিমাচল
পরির রাজকুমারী হওয়ার সাধ জাগে। একটানা
থিয়েটার করা খুবই কি সহজ কাজ। শাস্ত্রীয়
গায়ন, বাদন, নৃত্য এবং ডকুমেন্টারি ফিল্ম... ঝলমল
রাজধানীর কমানী অডিটোরিয়ম। তবলা-র তালে
পণ্ডিত বিরজু মহারাজ-এর ঘুঙুর-এর ধ্বনি...
অভিভূত এ কত্থক-দর্শন। তবলা-কে পুরুষ এবং
ঘুঙুর-কে স্ত্রী বাদ্যযন্ত্র মনে করা হয়। তপস্যারত
ভগীরথ, পৃথিবী-পদার্পণ-ব্যস্ত চঞ্চল গঙ্গা বয়ে যায়...
রাগ শংকরা ঝটপট ডানা মেলে উড়ে চলে
আসমুদ্র হিমাচল...
জাগলার
শতাব্দীর সূর্যের উদয়-অস্ত খেলায় মানুষীর মহিমান্বিত
প্যারাডক্স। ছাদের কিনারায় বৃক্ষহীন-মালভূমি। পরস্পর
সমান্তরাল বাহুর আদি ও অস্ত খুঁজতে কিছু আলোকছটা
নজরে আসে। বাতাসে ধূপ-ধুনোর গন্ধও। বৈদিক যুগ
থেকে আধুনিক সংবিধানে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভারাক্রান্ত
সমতার সংলাপ। নিস্তব্ধ পাতালপুরী। শেকল ভাঙার
শব্দ শোনা যায় কোথাও। কারারুদ্ধ নয়, দক্ষ
জাগলার ঘরে ও বাইরে বিশিষ্ট সাইক্লোট্রোন
জড়িয়ে নেয়। সঙ্কুচিত আজ পাহারাওয়ালার ডানা ও পা।
সূর্যোদয়
সূর্যের অন্তর জুড়ে থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপ্লোশন।নীলগ্রহ
পরম প্রেমে জড়িয়ে ধরছে পাহড় সমুদ্র মৃত্তিকা আর
জীবন্ত বংশধর। সৃষ্টি ও লয়। ব্রহ্মাণ্ড-বিস্তৃত শক্তির
ধ্রুবক মান। আত্ম-উপলব্ধি ছাড়া ধোঁয়াশার চাদর
ছড়িয়ে যায়। শ্যাওলাঢাকা জলাশয় কখনো কখনো
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মগ্ন হয়ে ওঠে। সূর্যোদয় দেখার
আশায় অনন্তকাল জেগে থাকতে ইচ্ছে হয়।
এডমন্ড হিলারি তেনজিং নোরগে-র মাউন্ট এভারেস্ট চুম্বন,
বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ক্রিক-এর ডি.এন.এ.-এর
গঠনবিন্যাস আবিষ্কার, ইউজিন অ্যাসারিন্সকি-র
‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট’ ....প্রজ্বলিত ঊনিশশো
তেপান্ন। আনন্দ-সম্মেলন রঙিন মর্মর প্রস্তর
বিছিয়ে মাইলের পর মাইল হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা।


Comments
Post a Comment