কানাইলাল জানা
কানাইলাল জানা
জন্মঃ ২৭.০২.১৯৫৭। শিমুলিয়া, ভীমেশ্বরী বাজার, পূর্ব মেদিনীপুর। মা বাবা প্রয়াত। প্রথম কবিতা প্রকাশ ১৯৭৬-এ 'নবযুগ ' এ।সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে সাম্মানিক স্নাতক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর। স্নাতক আইন-এও। পশ্চিম বঙ্গ সরকারের কারাদপ্তরের প্রাক্তন জেল সুপারইনটেনডেন্ট। ছিলেন কারাবাসীদের পত্রিকা 'নবার্ক' এর কার্যকরী সম্পাদক। ১১টি কাব্যগ্রন্থ, একটি নির্বাচিত কবিতা গ্রন্থ প্রকাশিত। প্রাপ্ত সম্মাননাঃ কবিতা পাক্ষিক সম্মান, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার, কবিতা সিংহ স্মৃতি পুরস্কার, 'দুর্বার শ্রদ্ধার্ঘ', তারকসেন স্মৃতি পুরস্কার, কবি নিত্যানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, 'সমিধ' কবিতা পত্রিকা সম্মাননা, বাংলাদেশের টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের উদ্যোগে শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম শতবার্ষিকী সম্মাননা স্মারক ',অন্যমন' সাহিত্য পত্রিকা সম্মাননা স্মারক।
গুচ্ছ কবিতায়
কারা শিক্ষা লাভ করবে
বরাবর চেয়েছি আমরা তো তবু কিছু পড়াশুনো করলাম। এবার গাছগাছালি মাঠ ময়দান পড়াশুনো করুক।ঘাইভর্তি পুকুর স্মৃতিভ্রষ্ট চৌবাচ্চা দরকষাকষি করা পাখিতীর্থ পড়াশুনো করুক। পালংশাক ধনেপাতা গাঁটি কচু শিক্ষিত হোক্। চালতা আমড়া সজনেগাছ ডাক্তারিটা শিখুক। রামছাগল বকনা বাছুর দেশি মোষ পাঠশালায় যাক। সিঁড়ির পর সিঁড়ি উঠে যায়,ঘাত প্রতিঘাত কাকে বলে শিখুক...
ঢেউ গুনে গুনে দিন যায় যে ঝাউপল্লির, রাগ হিংসে সরবরাহ দেয় যে ষড়রিপু, কাস্তে ছুরির ধার দেয় যে ষড়যন্ত্র চাই তারা প্রত্যেকে শিক্ষিত হোক।যে জোঁক শুধু ছেঁকে ধরে যে ঠ্যাঙ শুধু ছোড়া জানে যে চিৎকার শুধু হাওয়া গরম করে তাদের প্রত্যেকে শিক্ষিত হওয়া খুব দরকার…
কোভিড নাইন্টিন
এমন তো হতেই পারে কোভিড- নাইন্টিন কে তাড়িয়ে নিয়ে গেল কুহু ডাক। মাস্ক খুলে প্রত্যেকের চোখে মুখে অগাধ অক্সিজেন ঢেলে গেল মুখচোরা ছাতিম। মনের কোণে বাসা বাঁধা ভয়কে গোরু খেদানোর মতো খেদিয়ে দিল আখ্যান চূর্ণ। মাকড়সার জালে আটকে পড়া প্রবল ইচ্ছে কে আত্মকথন দিয়ে সাফ করে দিল গৃহপালিত আশ্বিন। সাদা বক হয়ে উড়ে যাচ্ছিল মগজধোলাই, তাকে গুলতি মেরে নামায় তামাকু সেবন। যে সুড়সুড়ি থেকে করোনার জন্ম তাকে পাশ বালিশ চাপা দেয় রক্ত জবার খোঁড়া ঠ্যাং...
স্পঞ্জ ভেবে করোনা-কাল কে এ্যায়সা টান দেয় শূন্যে চড়ার মই, খান খান হয়ে উড়ে যায় দক্ষিন সমুদ্রে। প্রত্যেক করোনা পজিটিভের গায়ে বাবা বাছা বলে হাত বোলায় ব্ল্যাক হোলের মায়া এবং আতঙ্ক কে জলখাই ঠাউরে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় শঙ্খ চিল। যা দেখে আনন্দে ডিগবাজি খায় ভালো থাকার আকাংখা…
কতটুকু জানি
একটা ডুমুর গাছের যে কতটা কল্পনা শক্তি থাকতে পারে, একটা বটগাছ যেভাবে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করে, যে কোনো সদর রাস্তা যে কতো পীড়ন সহ্য করতে পারে আমাদের জানা নেই। আমাদের জানা নেই খড়কুটো কতো পরিমাণ ভার
বইতে পারে, বীজক্ষেত কতটা উত্তাপ ছড়াতে পারে বা জলোচ্ছ্বাস কতটা তলোয়ার ঘোরাতে পারে?
আমরা জানতে চাই না পান্ডুলিপি কতটা গর্জন করতে পারে, বৃষ্টি মুখর দিনের কতটা চাহিদা থাকতে পারে, বাংলা ভাষা কতটা আক্ষেপ করতে পারে? আমরা কি জানি ব্রহ্মতালুরও শঙ্খ লাগা আছে, প্ররোচনার আছে ঝুল বারান্দা বা ডাক বাক্সের প্রেম বিরহ?


Comments
Post a Comment