শিবলী মোকতাদির
শিবলী মোকতাদির
জন্ম:- ১১ জুন ১৯৬৯ বগুড়া, বাংলাদেশ।কবি, প্রাবন্ধিক।প্রকাশিত গ্রন্থ :ধানের রচনা দিলে পত্রে (কাব্যগ্রন্থ)ছন্দের নান্দনিক পাঠ (প্রবন্ধগ্রন্থ),নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল (কাব্যগ্রন্থ ),সোনার কার্তুজ (কাব্যগ্রন্থ ), রৌদ্রবঞ্চিত লোক (মুক্তগদ্য),ব্যবহারিক বিস্ময় (কাব্যগ্রন্থ),দুর্ভিক্ষের রাতে (কাব্যগ্রন্থ),কায়া ও কৌতুকী (কাব্যগ্রন্থ),ছন্দকথা (প্রবন্ধগ্রন্থ),লুপ্ত সভ্যতার দিকে (কাব্যগ্রন্থ)।
গুচ্ছ কবিতায়
কবি শিবলী মোকতাদির
সীমান্ত এক্সপ্রেস
ঘুম আসে না। রাত্রি যায়।
ধীর গতিতে। আশ্বিনের।
ট্রেন চলে যায়। যাত্রীদের।
চোখ মেলেছি। এই তো ঢের।
দেখার ছিলো। এইটুকু।
রক্তে ভেজা। একটি লাশ।
মাতাল বটে। বলছে কেউ।
বোতাম খোলা। ভাদ্র মাস।
এই গরমে। গণ্য হোক।
কার বাবা সে। ভাইটি কার।
পুলিশ-থানা। শান্ত সব।
চাকুর পেটে। দিচ্ছে ধার।
ও পলাশ, নিয়োজিত শিমুলের বনে
বহু দিন পর পরিত্যক্ত বনে ফিরে এসে
মনে হল, জনপদে আগুন ধরেছে অভিমানী এই দেশে।
অতিতের গুপ্ত লতা-পাতা ধীরে ধীরে বিবিধ অলীক অনুষঙ্গে
ঘটনার মতো বন্দি, লিপিবদ্ধ হয়ে আছে; অসহায় নানা রঙ্গে।
যেন আজ শিমুলের ডালে-ডালে বিপ্লবী সুরের আনাগোনা
ক্রমাগত বধিরের মতো অপরাধী করে সেইরূপ ব্যথিত অচেনা।
এইসব ঋতুর নিষিদ্ধ নগ্ন প্রকাশনা ঢেকে দিতে;
দু’হাতে বুজেছি চোখ, নিরুপায় অন্ধের ভঙ্গিতে।
শুনি দূর থেকে ছুটে আসা বিদেশি ছবির দমকলে।
অশুভ বাতাস কেটে কেটে থামিয়েছ দাবানল, নিয়োজিত যোগফলে।
তবু যতবার পালাতে চেয়েছি, দেখি তুমি আলতা-জড়ানো-পায়ে
সদ্য ঋতুময়ী, লালশাড়ি পরে মিশে যাও; নির্বাচিত পলাশের গায়ে গায়ে।
আর আমি ভয়ে, নিষিদ্ধ লজ্জায়, বিকশিত ভূগোলের অচেনা অরণ্যে
অযথাই ব্যক্ত হতে থাকি, প্রতিটি পলাশ-শিমুলের ব্যাকরণে।
মহিমাগঞ্জ
আসো আসো ট্রেন অপেক্ষা করি
কতদূর বেঁকে সোজা হবে তুমি
ভোরের মালতি খোঁপা হতে ঝরে
রোদে ছায়া নেই হাওয়া মৌসুমী।
চক্রবৃদ্ধি হারে এখানে শরৎ বাড়ে
আকাশে থাকে মেঘ, প্রজাপতি
পালিয়ে যাচ্ছি চুরি করে তাকে
সঙ্গে নেবার দিলে না তো সঙ্গতি!
রাশি রাশি লোক কোথায় যে যায়?
বৃষ্টি ঠেলে কেউবা পড়ে ঝড়ে
ছাতা আর মাথা ভিজে একাকার
পুরোনো পুরুষ কেঁদে মরে অন্তরে।
কায়া ঘন হয় সন্ধ্যা নেমে আসে
খাঁ খাঁ করছে শূন্য টিকিট ঘর
সচেতনভাবে সোনার বালাটা দেখি
রুপোর আলো ঝলসালো তারপর।
এলে তুমি ট্রেন লোহার কারবারি
এখানে সেখানে ফুটো-ফাটা স্পঞ্জ
ফুলের মধ্যে পদ্ম আমার প্রিয়
তাকে দেখতেই যাচ্ছি মহিমাগঞ্জ।


Comments
Post a Comment