সমর সুর
সমর সুর
জন্ম:-নদীয়া জেলার রাণাঘাট শহরে জন্ম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক।নব্বই এর দশকে লেখা শুরু করলেও একদশক বাদে লেখা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। সেই সময় লিখেছি দেশ,অনুবর্তন,দরগারোড,রক্তকরবী,মহাপৃথিবী ছুঁয়ে বিভিন্ন পত্রিকায়।পুনরায় আবার লিখতে আসা নতুন শতকে।এই সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখছি। কবিতা ও গল্প।কবির ভাষায় বলতে পারি ফুল ফুটুক বা না ফুটুক লিখে যাচ্ছি। ভাল লাগে পেন্টিং ও ক্লাসিক্যাল মুভি,সঙ্গীত।
গুচ্ছ কবিতায়
খোয়াবনামা
গালিবের সৌধের উপর চাঁদ ঝুঁকে আছে
সমস্ত যন্ত্রণাই আজ যেন শান্ত
কেন তুলে দাও ঘুম থেকে মধ্যরাতে !
নিদ্রহীনতো ছিলাম এতকাল একটা সকাল
অন্তত আমাকে দাও।
ঘর ভেঙ্গে গেলে পাখিও জানে শোক মূল্যহীন
সারারাত জেগে চাঁদের আলোয় দেখি
গালিবের সৌধ জুড়ে আশ্চর্য খোয়াবনামা।
সামিয়ানা
নাবিকের সজাগ চোখের মতো চেয়ে আছি প্রতিদিন
তুমি কি দুঃসংবাদ ছাড়া কিছুই আনতে পারোনা !
এত যে পলাশ ফুটে আছে তার রঙ, মৃদুঘ্রাণ স্বপ্ন.....
তোমার দুঃখের গান থেকে সারেঙ্গী সরিয়ে নাও।
অনুরণনে ভেঙ্গে যায় মেঘ।
সেই ছেলেবেলা থেকে হারানোর ব্যাথাগুলো আজ সামিয়ানা হয়ে গেছে।
তুমি কি দুঃসংবাদ ছাড়া কিছুই শোনাতে পারো না !
হারানো প্রাপ্তির কথা, ঝড়ের পর পাখির নতুন নীড়ের কথা।
নাবিকের সজাগ দৃষ্টির মতো চেয়ে থাকি ঝড়ের আশঙ্কায়, ছেঁড়া পাল।
সামিয়ানার নিচে আজ রাতভোর হবে জারিগান।
গাছ
শীতের সকালে ফিরে আসে শিউলির দল
বৃদ্ধের মুখের মতো হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে গাছ।
যতদিন বেঁচে থাকা এভাবেই নিঃস্ব হওয়া
তবুও পাতা ঝরে গেলে আবার জীবন, কচিপাতা,ফুল,ফল
ছড়ানো বীজের থেকে বেড়ে ওঠে দুঃস্বপ্ন।
নিঃস্ব বলে কিছুই হয় না, থেমে থাকে না পাকদন্ডী
ঘরে ফিরে এসে আয়নায় মুখ রেখে দেখি
নিজের দাঁতের প্রতিচ্ছবি।
নিকোটিনের ধোয়ার মতন পেঁচিয়ে যায় স্বপ্নগুলো।
দূর থেকে দেখি বৃদ্ধের মুখে যেন হা করে দাঁড়িয়ে আছে শীতকাল।


Comments
Post a Comment