বিশ্বজিৎ রায়
বিশ্বজিৎ রায়
জন্ম - ৬ অক্টোবর ১৯৬৩,কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।শিক্ষা -- এম. এ. (ক.বি)পেশা -চাকরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের আধিকারিক। নব্বই দশকের কবি। প্রবন্ধ ও ছোট গল্পেও তিনি সিদ্ধহস্ত।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ -- মাইল মাইল আল্ট্রাভায়োলেট, আমার নক্ষত্রভূমি,সাদাপাতা ও চাঁদের গল্প, বানভাসি জ্যোতস্নায়,পাণ্ডুলিপি, মেঘের হরফে, ভাঙা চোখে বাংলা,মেরুন রঙের কবিতা, চন্দন বনের রুদ্ধ সংগীত।
পুরস্কার/ সম্মাননা --মঞ্জুষ দাশগুপ্ত স্মৃতি পুরস্কার, "প্রেষণা " সাহিত্য সম্মান,'আমি' পত্রিকার পুরস্কার " সাহিত্য রংবেরং সম্মান", "সুভাষিণী রায় স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার"
"আরাত্রিক সম্মান","দেবলা " পত্রিকা কর্তৃক "শান্তি দেবী স্মৃতি পুরস্কার",সাপ্তাহিক ইস্পাত, কুষ্টিয়া, প্রদত্ত সাহিত্য সম্মান,বেনু গঙ্গোপাধ্যায় স্মৃতি স্মারক সম্মাননা ইত্যাদি
গুচ্ছ কবিতায়
অপেক্ষায়
নুয়ে পড়া শিরদাঁড়ার নিচে পরাজিত দিনগুলি
মুখ লুকিয়ে বসে থাকে ---
লাঞ্ছনা-অপমানের স্মৃতিগুলি বারবার রাবার ঘষে
মোছার চেষ্টা করে বর্ধিষ্ণু ছায়া,
জমাট রক্তের বিষন্নতা চেয়ে থাকে
দূরের মহাকাশের দিকে
কোনদিন যদি কেউ এসে দিয়ে যায় বিজয়মন্ত্র
সেই অপেক্ষায়...
পাদটীকাগুলি নিয়ে নৈঋতে ঘোরে সত্যমেব মেঘ
একদিন সে প্রবল বেগে ধেয়ে এসে
ভেঙে দিয়ে যাবে সব মিথ্যার জয়ধ্বজা,
অলৌকিক শক্তিতে শিরদাঁড়াগুলি সোজা করে
পরাজয়গুলি বস্তাবন্দী করে
ফেলে দিয়ে আসবে দূর ব্রহ্মাণ্ডে...
জীবনের কাঁধে কেউ সেদিন নিশ্চয়ই
রাখবে আবার ভরসার হাত...
সাপ
আপনার ভেতরে একটা সাপ
গুটিসুটি মেরে বসে থাকে, দেখতে পাই ...
আপনি রেগে গেলেই ফোঁস করে ফণা বার করেওঠে
দুধ-কলা সেবনে আপনি যখন ব্যস্ত থাকেন,
আপনার সেই সাপও
গুটিসুটি মেরে তখন আরাম করে ...
আপনার পা কেউ মাড়িয়ে দিলেই
আপনার সাপ ফণা বার করে জেগে ওঠে –
আপনার ভিতর-বিষে নীল হয়ে ওঠে ওই সাপ,
ওর মাথার ভেতরেটা তখন
ফুটতে থাকে টগবগ করে ...
সেই বিষ না বের হওয়া পর্যন্ত আপনি অন্য মানুষ ...
ঝড়-তুফান রাতকে সঙ্গী করে সেই বিষ উগরে দিয়ে
যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে সাপ,
আপনিও আবার সুশীল, সুভদ্র হয়ে ওঠেন তখন...
উত্তরাধিকার
এই যে খুঁটে খুঁটে খাওয়া দিন
এই যে ছিঁড়ে-কুটে যাওয়া রাত
সব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া....
এই যে প্রতিদিনের অবজ্ঞা-অপমান
এই যে পরাজয় আঁকা এতো উপহার প্রাপ্তি
সব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া...
আমার পূর্বপুরুষরা দূরের তারাদের থেকে
আলো এনে বুলিয়ে দিতেন ক্ষতচিহ্নগুলির ওপর,
সাজাতেন ঘর-উঠোন-আনন্দবাগান,
বিতরণ করতেন আলো ঘরে ঘরে---
আমিও তা-ই করি, আজন্ম করে চলেছি,
এ'সবই আমার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া....


Comments
Post a Comment