আবু রাইহান



আবু রাইহান

জন্ম:- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের সরবেড়িয়া গ্রামে ১৯৭০ সালে! বর্তমানে কর্মসূত্রে বন্দর শিল্পনগরী হলদিয়ার বাসিন্দা! বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় এম এসসি এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি থেকে বায়োটেকনোলজিতে এম.টেক!পেশায় হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ডিগ্রী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিনিয়র আধিকারিক!কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রভাতী সংবাদপত্র ‘দিনদর্পণ’ পত্রিকার অ্যাসোসিয়েট এডিটর(সাহিত্য সম্পাদক)! ‘হলদিয়া সাহিত্য সংসদ’ এর সম্পাদক! ত্রৈমাসিক  সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রমিতাক্ষর’ এর যুগ্ম সম্পাদক ! নব্বইয়ের দশকের কবি! প্রবন্ধ, ছোটগল্প লেখায় তাঁর কলম সমান পারদর্শী।এখনো পর্যন্ত ‘নিষিক্ত ভালবাসা’ ও ‘সংকেতময় বিস্ময়’ নামে দুটি কাব্যগ্রন্থ এবং  ‘বাংলা কাব্য-সাহিত্যে ইসলামিক সংস্কৃতি ও সমাজ’ নামে একটি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে! ২০১৫ সালে পেয়েছেন ‘নিষিক্ত ভালোবাসা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ‘কুসুমের ফেরা’ সাহিত্য পত্রিকার ‘কবি জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’!২০১৭ সালে কবিতা চর্চার জন্য পেয়েছেন ‘টার্মিনাস’ সাহিত্য পত্রিকার ‘সেরা কবির পুরস্কার’!‘বঙ্গ প্রদেশ’ পত্রিকার পক্ষ থেকে সাহিত্য চর্চার জন্য ২০১৮ সালে পেয়েছেন ‘বঙ্গরত্ন সাহিত্য পুরস্কার’!২০১৯ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশ ঢাকার গাজীপুরে কবি সাযযাদ কাদির স্মৃতি সম্মাননা ২০১৯!২০২০ সালে পেয়েছেন বাংলাদেশের ‘রবীন্দ্র-নজরুল ফাউন্ডেশন’ এর ‘সংহতি সম্মাননা’!


গুচ্ছ কবিতায়
কবি আবু রাইহান




এই অবগুন্ঠন
 
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে কাটছে প্রতিটি প্রহর
যেন কাফনের চাদরে ঢাকা বিশ্ব চরাচর
হায় আর কতদিন রহস্যময় এই অবগুন্ঠন  
অনিচ্ছায় ক্লান্ত আমার দৃশ্যপায়ী তৃষ্ণার্ত লোচন !

বিষন্ন বর্ণনার মতো নুয়ে থাকে রাতের আকাশ  

আর  বিপন্ন শব্দে ভরে উঠছে ভূগোলের বিন্যাস!



বিশ্বাসী প্রিয়তমা



দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসে ফজরের সুমিষ্ট আজান 

লঘু তন্দ্রার মধ্যে শুনি নিদ্রা নয়, অন্তরাত্মায় লাগে টান!

কেটে যায় প্রিয় ঘুমের ঘোর- 

গ্রিলের ফাঁক দিয়ে দেখি বন্দর শহরের মায়াবী ভোর

এ সময় বয়ে যায় অদ্ভুত শীতল বাতাস,  

                   বিশুদ্ধ লাগে শ্বাস-প্রশ্বাস!

দূরাভাষে ঘুম থেকে তোমাকে টেনে তুলি 

            সেজদায় নতজানু হওয়ার কথা বলি!

জায়নামাজে বসে শোবেসাদেকের আধো অন্ধকারে 

       আমি কল্পনায় দেখি তোমার সেজদাবনত মুখ

কলবের জারিত অনুভবে যাপন করি 

        তোমার প্রতি বিশুদ্ধ ভালোবাসার পবিত্র সুখ!

আমাদের রোদন শুনে নিশ্চিত দ্রব হবেন তিনি  

           তাঁর হাতেই তো অদৃষ্টের অনিবার্য কলম 

আমাদের অপ্রাপ্তির যন্ত্রনায় তিনিই একমাত্র পারেন 

                    লাগিয়ে দিতে আশার মলম!

হে আমার বিশ্বাসী প্রিয়তমা-  

আমাদের এই বিশুদ্ধ ভালোবাসার যাপিত জীবনের জন্য চাই 

                             তাঁর মহৎ ক্ষমা!



হে আদম সন্তান



অগণিত জীবমন্ডলীতে ভরা বিস্ময়কর এই পৃথিবী এখন কত প্রাচীন

অথচ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সূচনালগ্নে তুমি ছাড়া সবকিছুই ছিল অস্তিত্বহীন !

 জল থেকে জীবন, আর নূর থেকে সৃষ্টি করলে আজ্ঞাবহ ফেরেশতা 

তবুও আমরা মানুষ কেন যে অহরহ হারিয়ে ফেলছি তোমার প্রতি আস্থা! 

পৃথিবী নামক গ্রহতে আমাদেরকেই করেছ তোমার দায়িত্বশীল প্রতিনিধি 

নিশ্চিত জানি আমাদেরকে শেষ পর্যন্ত তোমার কাছেই ফিরে যেতে হবে 

এটাই তো যাপিত জীবনের অমোঘ সত্য,মহাকালের অনতিক্রম্য বিধি!

স্বর্গের অকল্পনীয় সুখেও পিতা আদমের বেড়ে যাচ্ছিল প্রবল একাকীত্ব 

মা হাওয়াকে জীবনসঙ্গী হিসাবে সৃষ্টি করে স্মরণ করালে তোমার মহত্ব!

হায় প্ৰিয় সঙ্গিনী নারী,রমণীয় ভালোবাসার মোহময় গিরিখাদ

তোমার নির্দেশ ভুলে কেন যে নিলাম নিষিদ্ধ ফলের আস্বাদ!

হারিয়ে ফেললাম দুটি বিশুদ্ধ প্রাণের স্বর্গীয় ভালোবাসার মগ্নতা   

লজ্জা বিষয়ে সচকিত হয়ে পাতা দিয়ে ঢাকলাম আশরীরী নগ্নতা!

অবাধ্য হয়েও শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে ইবলিসের মতো হতে চাইনি উপমা 

তাই নিজেদের ভুলের জন্যে নতজানু হয়ে তোমার কাছে চাইলাম ক্ষমা!

তোমার মহৎ ক্ষমায় জনহীন পৃথিবীতে একাএকা আমরা হলাম অবতীর্ণ 

হাজার বছরের নিঃসঙ্গ পথচলা শেষে তুমি আবার মিলনে করলে উত্তীর্ণ!

তোমার প্রতি গভীর বিশ্বাসে মাটির পৃথিবীতে 

                             গড়ে উঠলো মায়ার সংসার 

আমাদের পরিশ্রমলব্ধ কষ্টকর জীবনে সন্তানেরাই 

                           তোমার দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার!

জীবনের শেষ লগ্নে জান্নাতি ফলের স্বাদ পেতে চাইলো পিতা আদমের মন  

মা হওয়া বুঝলেন এ জীবন সমাসন্ন,তাই মৃত্যুর ফেরেশতাদের আগমন!

এখনো সময় আছে, শেষ হয়ে যায়নি তোমার মহৎ ক্ষমার উদার আহ্বান  

অনন্তকালের যাপিত জীবনের জন্য,এখনই নতজানু হও হে আদম সন্তান!





Comments

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

সুচিপত্র

মিহির সরকার