হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
হরিৎ বন্দ্যো- পাধ্যায়
হাতের ওপর হাত রেখে
হাতের ওপর হাত রেখে
এখনও যাদের ছবি চোখে ভেসে ওঠে
তাদের কোনোকালেই কোনো নিজস্ব ঠিকানা ছিল না
পায়ে পায়ে হেঁটে যাবে সারা দিনরাত
এখনও কথা হয় কোনো এক সকালের মনস্ক সন্ধ্যায়
তারা হাত বাড়িয়েছিল জানলা দিয়ে
সেই হাত ছুঁয়েছিল আমাদের জল হাওয়া মাটি
সূর্য ডুবেছিল বিকেলর কুয়াশা সন্ধ্যায়
তবুও তারা শিশিরের মতো হারিয়ে গিয়েও জেগেছিল
দিনের আলোয় ঘাসের উদাত্ত বুকে
চিনেছিল কেউ কেউ যেভাবে চেনা যায় সমুদ্রতীরের
অগণন বালিকণার কিছু কিছু আলোকিত বারান্দার বুক
এভাবেই তারা এখনও জেগে থাকে
অবিরত হেঁটে চলা মেঠো পরিব্রাজকের কাদা হাতের
পরিশ্রমী প্রাত্যহিকতার অগোছালো শরীরী মুদ্রায়।
দুপুরের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে
দুপুরের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে
আমরা ফুরিয়ে আসছিলাম
যেভাবে ফুরিয়ে আসে পড়ন্ত বিকেলের মায়াময় উঠোন
অলিগলি রাজপথে যতগুলো বেঁচে ছিল ফুঁ
শ্বাসবায়ু কমে গিয়ে নিভে গেছে সবকটি তেলের প্রদীপ
মেরুদণ্ডের তাপেই নত থাকে মাথার শাসন
কিন্তু রোদের ঘরেই খসে খসে পড়ে পলেস্তারার মতো
বৈকালিক বুড়িবসন্তের যাবতীয় মুখরতা
হাতে হাতে ঘুরে যায় রঙের প্যালেট
কে জেনেছে ভালোবেসেই হাত যায় রঙের গভীরে
জলকথা চুপ থাকে
যতদিন হাতে হাতে লেগে থাকে ঘর
আমরা ভুলে যাচ্ছিলাম সমুদ্রের রাস্তা
ফিরিয়ে দিচ্ছিলাম নদীঘর থেকে উড়ে আসা শ্বাসবায়ু
আর এভাবেই শেষ হয়ে আসছিল পা-ঘুড়ির সুতো
আমাদেরই হাতের মধ্যে বেড়ে ওঠা
উন্মত্ত লাটাই থেকে গল্পের মাঝপথেই ।
বাসস্টপের ঠিকানা
বাসস্টপের ঠিকানাগুলো সব একমুখী
ডিপো থেকে বেরিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়
রোদ্দুর ভেঙে যেতে যেতে আবার তাদের ডাক আসে
কোথাও একটা নীলচে কমা তাদের দাঁড় করায়
কিন্তু তারা তো রেললাইনের সোজা হাঁটে
সোজার ঠিকানা তো দিগন্তে শোভা পায়
কে আর তাদের হাতে নিয়ে পা ফেলে হাওয়া গাড়ি
আলতো করে হাত ছুঁয়ে কথা ছিল পরে সব কথা বলার
সোজা কথায় বিশ্বাস যা হোক এখনই বলে ফেলা
তাই কথা সব মোড় ঘুরে বাঁক নিয়ে নেয়
রেললাইনের সোজা ঠিকানা এখনও রচনায় আসে
বৎসরান্তে একবার মাত্র ছাত্র
আবিষ্কারের মেজাজে তাকে ধরে ফেলে
মুখস্থই লিখে ফেলে উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত
তারপর কোথায় তারা ?
কোনো এক ছুটির সকালে পর্বতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে
সেই ছাত্র আগামীর হাত ধরে
চোখ ছোটো করে দেখায় সেই সোজা ঠিকানা
অনেক দূরে একটা আলোর রেখা
শুধুমাত্র সংজ্ঞায় ধরা দেয় ।


Comments
Post a Comment