অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়


অয়ন বন্দ্যো পাধ্যায় 

জন্ম:- ১৬ই আগস্ট, ১৯৭৬। নিবাস হুগলি জেলার রিষড়া শহরে।প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৯৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। প্রথম কবিতার বই ২০০০ সালে। ‘কবিদানব’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ২০১০-এ পেয়েছেন ‘কৃত্তিবাস পুরস্কার’। ভারত সরকারের সংস্কৃতি-মন্ত্রকের অধীনে ‘জুনিয়ার ফেলোশিপ’ পেয়ে গবেষণা করেছেন বাংলা কবিতা নিয়ে। সাহিত্য অকাদেমির আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ রাইটার্স ফেস্টিভ্যালে বাংলা ভাষার প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন ২০১০-এ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে সম্পাদিত ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত; এই পত্রিকার সহ-সম্পাদনার দায়িত্বেও ছিলেন। ‘বউপদাবলী’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বাংলা কবিতা আকাদেমি প্রবর্তিত ‘তুষার রায় সম্মাননা’ পেয়েছেন ২০২০-তে।


গুচ্ছ কবিতায়
কবি অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়




কনফেশন


বুকের ওপর ঠাসছে যত বুকধরা রণপা

হেই বাপা, আর কাব্যি করি ইচ্ছা করে না—


রেশন-বাজার ধরল ছেঁকে ফর্দ উড়ে যা

টুকরো সময় সেদ্ধ ক'রে সস্‌ মাখিয়ে খা


ক্যারমচাকা, কেলাবদুয়ার, লালচে খুরির চা

খাঁচার থেকে বেরিয়ে হাঁটো—বাঁচার সমস্যা...


এ-বাঁক সে-মোড় ঘোরার শেষে আবার তো খাঁচা

মেলব কোথায়—ছাদ ঢেকেছে সংসার-ঝান্ডা


চিলেকোঠায় আসছে উঠে না-দেওয়া বিমা

ভাঙছে সিঁড়ি... দুই তিন এক... ভবিষ্যতের পা


গোড়ালিময় ফোস্‌কা-গোটা... স্বপ্ন দেখার ঘা

চটির নীচে লেপটে অলীক ভেকেন্সি-কাদা


যদ্দূর চাও রোজগার-খাদ : ঝাঁপ দেব, হ্যাঁ, না...

দৌড়ে এসে পেছন থেকে ধরছে টেনে মা—


সামনে ধু ধু পান্ডুলিপি, উঁহু, লিখব না



বয়ঃসন্ধি


শেষচৈত্রের হাওয়া হল্‌কা-তুলে পাক খেলো শ্বাসে...

সে এক দুপুর ছিল, নিঃঝুম শহরের বাসে-

উড়ে বেড়াতাম; ছুটি-পাওয়া পাখিদের পাশে পাশে...

চিলের-চোখের-কোণে পুরনো ঝিলিক-আভা ভাসে...


সোনালি আগুনপাখি, দাও পাড়ি অতীত-আকাশে...

রোদ যেন ভাঙা কাচ, রক্ত ঝরেছে মধুমাসে... 

যে-কথা বলার ছিল, বলি নাই আকারে-আভাসে...

সব কথকতা যদি ঝড় নিয়ে আজ উড়ে আসে!...


ফুরনো ডায়রির-ভাষা, ভেসে এসো আকুল বাতাসে

কাগজে-বানানো-প্লেন, ঢুকে যাও সব ক্লাসে-ক্লাসে

স্কুল-কলেজের বুক-পাঁজর কাঁপানো হাহুতাশে

রঙ লেপে দিতে দিতে কারা যে নতুন ক’রে হাসে 


কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে


কে হায় হৃদয় খুঁড়ে চেতনা জাগাতে ভালোবাসে?



'আলো অন্ধকারে যাই’


মাথায় কুয়াশা জ’মে—বয়স ছুটেছে থমকাও

প্যাঁচানো-সুতোর-পথে একা একা ভালো নয় ঘোরা...

বিকেল ঝরতে পারে, ফোঁটা ফোঁটা গাঢ় সন্ধ্যাও...

অজান্তেই ফুসফুসে বিষিয়ে উঠতে পারে ফোঁড়া


কে যেন বলেছিলেন, ‘আবার আসিব ফিরে’—তিনি-

আনন্দ ভিক্ষে ক’রে জীবনে পেয়েছিলেন ঝাড়—

হতভাগা বাংলাদেশ চিরজন্ম থেকে যাবে ঋণী;

তুমিও আনন্দ চেয়ে গিলে নিলে মস্ত হাহাকার...


কিছুই যায়না পাওয়া। আমরা যত অক্ষম প্রাপক।

বয়সের ছুঁচ ফেঁড়ে ক্রমশ বেড়েছে ব্ল্যাকহোল...

শালিখ-টালিখ নয়, সক্কলেই যশোলোভী যখ—

ওপরের বিষণ্ণতা ছিঁড়ে ফেললে—চাতুরী আসল...


বয়স বাড়বে : ধানসিঁড়ি নদী হদিশ পাব না

‘আবার আসিব ফিরে’?ফিরে দোস্ত্‌ কেউ আসিব না!

Comments

Popular posts from this blog

কামাল আহসান

সুচিপত্র

মিহির সরকার