সুমন সরদার
সুমন সরদার
জন্ম:-বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে শ্রীধরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। শিক্ষাগত যোগ্যতা- এম এস এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এল এল বি।বাংলাদেশের নব্বই দশকের কবিদের মধ্যে সুমন সরদার অগ্রগণ্য একজন কবি। তাঁর কবিতায় একপ্রকার দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে ওঠে। নানা কাব্যগ্রন্থে এই স্বাক্ষর দীপ্ত হয়ে আছে। কবিতার পাশাপাশি গীতিকবিতা ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাটক লিখে থাকেন তিনি। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:- বিপন্ন বসবাস, আগুন রঙের ডানা, তবু তুমি দাঁড়িয়ে অনড় এবং মানব যাত্রা।
গুচ্ছ কবিতায়
এইখানে মৌনতা
এইখানে মৌনতা ভীষন মৌনতা নীরবে বসে আছি বৃক্ষ গুনে
তপস্বী সারারাত যেমনি দুই হাত আকাশে তুলে রাখে অন্ধ চোখে
অন্ধেরও চোখ থাকে দেখে সেসব ডাকে তবুও চুপচাপ হাস্যমুখে
সলজ্জ ভাবনার এ কোন অবতার কপালে টিপ দিয়ে স্বপ্ন বোনে
এই মৌনতা ভীষন মৌনতা ধূসর জাগরন আমাকে টানে
তবু রাত জাগা ভোরে তবে কি ভুল করে আমাকে পেতে চায় অকস্মাৎ
আঁধারের পথরেখা পাবোনা জানি দেখা ফিরিয়ে নিতাই আমার হাত
মুক্তির পথ নাই আমিও জেনে যাই মদন দেবতার পঞ্চবাণে
এইখানে মৌনতা ভিশন মৌনতা তাইতো চলে যায় দেউড়ি-পথে
হয়ে গেছে বড় দেরি পড়েছি পায়ে বেড়ি স্বপ্ন ভেঙে চুরে মেলার ভোরে
দেখা হবে আসো যদি পেরিয়ে কাল নদী নিজেকে বেঁধে নিয়ে বায়ুর ডোরে
একসাথে একবারই তবেই যেতে পারি আরেক জীবনের আকাশের আকাশ রথে!
খোঁজা
একদল পিপাসার্ত মঙ্গল হরিণ নিত্য শেষে
ফিরে আসে বারবার কুমিরের জলজ আবাসে জলের বদলে পায় নিউ শ্রোতার থাবা
ডোরাকাটা মেহেদী পরশ নিভৃতে পরাভূত!
বৃক্ষের শাখায় ঠেস দেয়া বিকেলের ক্লান্ত সূর্য নির্জন গার্হস্থ্য খোঁজে
সূর্যও কি অক্ষতযোনির সন্ধানে বিভোল হয়? যেমন বনের মাকাল ফলের আর্তি
ঝরে পড়ে কোন কৃষ্ণমুখে
সপ্তডিঙা ভাসিয়ে বেড়াই সপ্তমুখী জনারণ্যে
সূর্যের আঘ্রাণে ক্লান্ত হই
চাঁদের আড়ালে নিদ্রাবনে ক্রন্দনের সুর বাজে
নাই নাই কোথাও যে নাই
সকল পথেই পাতা আছে হরিণবাড়ির তালা
এ কঠিন দুঃসময় একা নয়, সঙ্গী দশানন সীতাপতি হালে নেই, বাঁচে না তো জনক নন্দিনী!
প্রসবসময়
আজ শ্রাবণের দিন
বৃষ্টি এলো বলে মা গাইলেন লালনের গান
নাকি মা লালন গাইলেন বলে বৃষ্টি এলো
বুঝতে পারি না
বৃষ্টি এলে মায়ের সুদৃঢ় ও মায়া ভরা মুখে আজো
অদৃশ্য আঁধার নামে
কষ্টের আকাশ থেকে পাথরের ভর দিয়ে আসে-- সুয়োরানী দুয়োরানী বুকঝিম শৈশবের গল্প
বুকের অন্দর নড়ে ওঠে, কাঁপে অল্পস্বল্প কাল এরকম কষ্ট কষ্ট অনুভূতি ভালো লাগেনা আমার তবুও দৃঢ় আমার মা, বিন্যস্ত শরীরে ছায়া গোনে মা বলেন, দেখো, বৃষ্টি ধুয়ে দেবে যন্ত্রণার ক্ষত
সেই থেকে বৃষ্টি এলে আমি মায়ের কাছেই থাকি লালনের গান শুনি
এরকম দিনে হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, মায়ের পেছনে স্বয়ং ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছেন
মনে হল আজ অনিবার্য সুন্দরের প্রসব সময়...


Comments
Post a Comment